নুহাশ পল্লী: হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত এক শান্তির নীড় Nuhash Polli Gazipur

নুহাশ পল্লী কেবল একটি বাগান বা পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের এক সৃষ্টিশীল স্বপ্নের নাম। গাজীপুরের পিরুজালীতে অবস্থিত এই স্থানটি লেখকের ভক্ত এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক তীর্থস্থান।

নিচে নুহাশ পল্লী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যবহুল পরিচিতি দেওয়া হলো:

নুহাশ পল্লীর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • প্রকৃতি ও সবুজের সমারোহ: প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই পল্লীতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। লেখকের পরম মমতায় গড়ে তোলা এই বাগান যেন এক শান্ত সবুজের ক্যানভাস।

  • বিস্ময়কর সব স্থাপনা:

    • লেবু বাগান: নুহাশ পল্লীর লেবু বাগান অত্যন্ত বিখ্যাত।

    • মমতাময়ী মা: এখানে শায়িত আছে হুমায়ূন আহমেদের মায়ের স্মৃতিস্তম্ভ ‘মমতাময়ী মা’।

    • ইটের ভাস্কর্য: পল্লীর ভেতর বিভিন্ন জায়গায় ইটের তৈরি অদ্ভুত ও নান্দনিক সব ভাস্কর্য রয়েছে যা দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

    • দিঘি ও পুল: স্বচ্ছ পানির সুবিশাল দিঘি এবং সাঁতার কাটার জন্য সুইমিং পুল এখানকার পরিবেশকে করেছে স্নিগ্ধ।

  • লেখকের স্মৃতি: এখানকার প্রতিটি কোণ যেন হুমায়ূন আহমেদের কোনো না কোনো সৃষ্টির কথা মনে করিয়ে দেয়। লেখকের শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাকে এই পল্লীর লিচু তলাতেই সমাহিত করা হয়েছে। তার কবরের শান্ত পরিবেশ অনেক ভক্তকেই আবেগাপ্লুত করে।

ভ্রমণের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য:

  • অবস্থান: গাজীপুর জেলার পিরুজালী গ্রামে। ঢাকা থেকে বাসে বা নিজস্ব গাড়িতে সহজেই যাওয়া যায়।

  • কখন যাবেন: নুহাশ পল্লী বছরের যেকোনো সময়েই সুন্দর। তবে বৃষ্টির দিনে এর রূপ যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। শীতকালে গেলে বাগানের সতেজতা দারুণ উপভোগ করা যায়।

  • সতর্কতা ও নিয়ম:

    • এটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং স্মৃতিময় স্থান। তাই এখানে প্রবেশের সময় কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়।

    • স্থানটি যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। কোনো ধরনের চিৎকার বা হৈ-চৈ না করাই ভালো, কারণ এটি একটি প্রশান্তিময় জায়গা।

কেন একবার ঘুরে আসবেন?

আপনি যদি হুমায়ূন আহমেদের কোনো উপন্যাস বা নাটক পড়ে বা দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকেন, তবে নুহাশ পল্লী আপনার জন্য একটি আবেগঘন অনুভূতির জায়গা হবে। আর যদি সাহিত্য বা নাটক সম্পর্কে বিশেষ ধারণা নাও থাকে, তবুও নির্মল প্রকৃতি ও নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা গাজীপুরের আশেপাশে খুব কমই আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *