
সম্প্রতি তিন জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে গাজীপুরের কৃতি সন্তান
১. মো. নাজমুল ইসলাম সরকার
গাজীপুর সদর উপজেলার কৃতি সন্তান নাজমুল ইসলাম সরকার বর্তমানে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ২৯তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই মেধাবী কর্মকর্তা তার প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে জনসেবা ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিসিএস পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৪৫তম স্থান অর্জন করা এই কর্মকর্তা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে কাজ করেছেন।

- বর্তমান পদ: জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর
- সাবেক পরিচালক (প্রশাসন), প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
- সাবেক সচিব, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন
- স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
গাজীপুরের মাটি ও মানুষের সাথে বেড়ে ওঠা এই কর্মকর্তা মাঠ প্রশাসনের সংস্কার ও জনবান্ধব সেবায় বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। চাঁদপুরে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব জেলাবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তি।
২. মিস মর্জিনা আক্তার
শ্রীপুর উপজেলার গর্বিত সন্তান মর্জিনা আক্তার মাদারীপুর জেলার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২৯তম বিসিএস ক্যাডারের এই দক্ষ কর্মকর্তা এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেছেন। নারী নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে তিনি গাজীপুরের সম্মান বয়ে এনেছেন দেশজুড়ে।

- বর্তমান পদ: জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মাদারীপুর
- সাবেক উপসচিব, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়
- নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারে বিশেষ অবদান
- শ্রীপুরের স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন
মাদারীপুরের ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে তার এই পদায়ন প্রশাসনের জেন্ডার ব্যালেন্স এবং দক্ষ নেতৃত্বের স্বীকৃতি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাদারীপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের গোদারচালা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের। তিনি পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করে গাজীপুরবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। ২৯তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন।

- বর্তমান পদ: জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পাবনা
- সাবেক উপসচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
- সাবেক একান্ত সচিব (PS) টু সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
- মাঠ প্রশাসনের অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিত্ব
আমিনুল ইসলাম তার বিনয়ী আচরণ এবং কর্মনিষ্ঠার জন্য পরিচিত। পাবনা জেলার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়াও আরো আছেন গাজীপুরের পূবাইল থানার গর্বিত সন্তান জনাব মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা, বর্তমানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক। এবং বান্দরবান এর বর্তমান মাননীয় ডিসি মহোদয় ও গাজীপুরের সন্তান।
“গাজীপুরের সন্তানদের এই গৌরবগাথা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আপনাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাফল্য আমাদের গর্ব।”
গাজীপুর এখন আর শুধু ভাওয়ালের গড় নয়, এটি এখন মেধার গড়। “এক সময় গাজীপুর পরিচিত ছিল কেবল শিল্পনগরী হিসেবে। কিন্তু আজ সেই চিমনি আর কারখানার ধোঁয়ার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রশাসনিক মেধার এক নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশের মানচিত্রে এখন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ জেলার (চাঁদপুর, মাদারীপুর, পাবনা, ফরিদপুর ও বান্দরবান) প্রশাসনিক চাবিকাঠি গাজীপুরের সন্তানদের হাতে। এটি কেবল ব্যক্তিদের সাফল্য নয়, বরং পুরো গাজীপুর জেলার শিক্ষা ও মেধার এক বৈশ্বিক জয়যাত্রা।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার জোয়ার: অভিনন্দন ও গর্বের জয়গান
গাজীপুরের এই তিন কৃতি সন্তানের একই সাথে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে অভিনন্দনের বন্যা। নেটিজেনরা এই সাফল্যকে “গাজীপুরের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করছেন।
ফেসবুকের বিভিন্ন জনপ্রিয় গ্রুপ ও পেজে তাদের গর্ব প্রকাশ করে লিখছেন— “গাজীপুর এখন আর শুধু শিল্পনগরী নয়, এটি এখন মেধাবী আমলা তৈরির কারখানাও।” অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, মাঠ প্রশাসনে এমন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন জেলাগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শ্রীপুর ও গাজীপুর সদরের স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নিজ এলাকার সন্তানদের এই গৌরবগাথা শেয়ার করে আগামী প্রজন্মের জন্য একে একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা সকলেই এই পাঁচ নক্ষত্রকে শুভকামনা জানিয়ে বলছেন, তাদের হাত ধরেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অনেকে আবার পূর্বে যারা ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নামও জানাচ্ছেন।