যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে আমরা অনেকেই সপ্তাহান্তে একটু নিরিবিলি জায়গার খোঁজ করি। যারা খুব বেশি দূরে না গিয়ে একদিনের মধ্যেই সবুজের ছোঁয়া এবং পানির শান্ত রূপ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য গাজীপুর সদর উপজেলার ‘খাতিয়া’ গ্রামটি হতে পারে একটি দারুণ গন্তব্য।
কেন যাবেন খাতিয়া?
খাতিয়া গ্রামের মূল আকর্ষণ হলো সেখানকার খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিশেষ করে ‘খাতিয়া ব্রিজ’ এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয়। ব্রিজের নিচে বিশাল বেলাই বিল, আর দুপাশে বিস্তৃত ফসলের মাঠ—এই দৃশ্য আপনার ক্লান্তি দূর করতে বাধ্য। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে, গ্রামীণ জীবনের ধীরগতি উপভোগ করার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
ভ্রমণের সেরা সময়
-
বর্ষাকাল: বর্ষায় যখন বেলাই বিল পানিতে ভরে ওঠে, তখন খাতিয়ার রূপ হয় দেখার মতো। নৌকায় করে পুরো বিল ঘোরার আনন্দই আলাদা।
-
শীতকাল: শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বিলের পাড়ে সময় কাটানো বা পরিযায়ী পাখি দেখার জন্য এটি সেরা সময়। এই সময়ে অনেকে পিকনিক করতেও এখানে আসেন।
কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে খাতিয়া যাওয়া বেশ সহজ: ১. প্রথমে আপনাকে গাজীপুর চৌরাস্তা বা জয়দেবপুর আসতে হবে। ২. সেখান থেকে অটো বা সিএনজিযোগে বাড়িয়া ইউনিয়ন বা কুমুন বাজারের দিকে যেতে হবে। ৩. স্থানীয়দের কাছে ‘খাতিয়া ব্রিজ’ বললেই তারা আপনাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেবে। চাইলে নিজস্ব বাহনেও অনায়াসেই পৌঁছানো যায়।
ভ্রমণের কিছু টিপস
-
খাবার-দাবার: খাতিয়া এলাকাটি বেশ শান্ত এবং গ্রামীণ, তাই এখানে খুব বড় কোনো রেস্টুরেন্ট বা আধুনিক খাবারের ব্যবস্থা নেই। সাথে পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
-
পরিবেশ রক্ষা: মনে রাখবেন, আমরা যেখানেই ঘুরতে যাই না কেন, সেখানকার পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। প্লাস্টিক বর্জ্য বা কোনো ময়লা বিলের পানিতে বা রাস্তায় ফেলবেন না। এলাকাটির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
-
সময়: জায়গাটি উপভোগ করার জন্য বিকেলের সময়টা সবচেয়ে ভালো। সূর্যাস্তের সময় বিলের সৌন্দর্য আপনার চোখে লেগে থাকার মতো।
গাজীপুরের খাতিয়া খুব বড় কোনো পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং এটি সেই সব ভ্রমণপিপাসুদের জন্য যারা প্রকৃতির একান্ত কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে চান। প্রিয়জন বা বন্ধুদের নিয়ে একদিনের ছোট একটি ট্যুরের জন্য আপনার তালিকায় এই গ্রামটিকে রাখতেই পারেন।